ভাঙ্গে তবু মচকায়না
রাজনীতি হচ্ছে মানুষের সামাজিক জীবন ব্যবস্থার অনবদ্য শক্তি। এর মাধ্যমে জাতি তার উত্তরোত্তর উন্নতির অবতরনিকায় অনন্য অভিযাত্রা সূচিত করতে পারে। উদার নৈতিক সুশীল সমাজ গঠনে এর কোন বিকল্প নেই। এর মাধ্যমেই উচ্ছৃঙ্খল যে কোন জাতিকে নীতিভিত্তিক একটি সীমারেখায় দাঁড় করানো সম্ভব। তবে তার পূর্বশর্ত হচ্ছে রাজনীতিকে অবশ্যই সভ্যতা ও ভব্যতা সম্পন্ন হতে হবে।
যে জাতির রাজনীতি যতবেশী উন্নত সে জাতি মানবতার বিচারে ততবেশী সমুন্নত। আর একমাত্র ইসলামই মানবজাতিকে এমন রাজনৈতিক দর্শন উপহার দিয়েছে যা তার ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সার্বিক সমস্যার পরিপূর্ণ নিয়ামক শক্তি। এবং তা মোটেও মানবপ্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক নয়।
‘বুদ্ধিজীবি’ নামক কিছু জীব আছেন যাদের একান্ত বিশ্বাস মানবমস্তিস্কই সকল সভ্যতার উৎস। তারা এটা বুঝতে নারাজ যে, মানুষ শারীরিক ও আত্মিক উভয় দিক দিয়ে অসম্পূর্ণ। মানুষের প্রতিটি কাজে-কর্মে গবেষনায় ও চিন্তা-ভাবনায় শুদ্ধতার সাথে ভূলের স্মৃতির সাথে বিস্মৃতির এ সফলতার সাথে ব্যর্থতার উপস্থিতি বিরাজমান। তো এখন যদি আমরা এদেশের রাজনীতির দিকে তাকাই বিশেষত: ইসলামী রাজনীতির দিকে (তবে সাবধান! সবুজ চশমা চোখে লাগিয়ে তাকাবেন না, কারণ ঘাস আর সবকিছুর মধ্যে পর্যাপ্ত তফাৎ থাকেনা।) তবে প্রথমেই আমাদের ইসলামী রাজনীতির শানে যে কথাটি চোখ বুঝে বলা যায় সেটা হচ্ছে, আমাদের একান্ত আশান্বিত রাজনীতি এখন মেঘলা আকাশের মত খন্ড-বিখন্ড অথবা বলতে পারেন ঐক্য এখানে ওষুধের মত করেও পাওয়া যায়না। এই দোদুল্যমান নিয়ে বিভাজনের রাজনীতিকে যে আর কবে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে একত্রিত করা হবে ‘তা’ কল্পনাজাত মাত্র।
আমাদের মহামান্বিত (?) কিছু রাজনৈতিক নেতারা রাজনীতিকে বিভক্তির দর্পনেই দেখতে পটু। ঐক্যের নির্মল আয়না নির্মুল করতে উনারা কখনই দুর্বল নন। এটা যেন তাদের চিরচারিত অভ্যাস।
তো আমাদের দীপ্তিমান (?) রাজনৈতিকদের বদৌলতে অনেকের আবার ধারনা “ধর্মে রাজনীতি হারাম”। তারা ধর্ম ও রাজনীতি একই মোড়কে দেখতে নারাজ। তাই বলে উনাদের পদলেহনে আমাদের রাজনীতিবিদরা তো আর নির্মোক পাল্টাতে পারেন না। কারণ ক্ষমতার ইস্যূতে হিস্যা হ্রাস হয়ে যাওয়ার কোন সদিচ্ছা তাদের নেই। তখন ক্ষমতা কুক্ষিগত করা বা অন্য কোন মহালক্ষে (?) তারা নিজেদের উপকণ্ঠেই নিজেকে মহাদায়িত্ববান মনে করেন। ফলশ্র“তিতে ইনারা মাঠ-ঘাট বয়ান-বক্তৃতার মাধ্যমে গরম করতে গিয়ে ছিন্ন জাল দিয়ে মাছ ধরার ব্যর্থ চেষ্টায় ঘর্মাক্ত হয়ে দৈন্যদশার শিকার হচ্ছেন, এবং উড়াচ্ছেন কল্পনার ফানুস।
ইসলামী রাজনীতির ভিত্তিভূমিতে কদাচারের যতসব উদ্যোগ চলছে তার উপসর্গ নির্মূলে যাদের বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখতে যৌক্তিকিতা ছিলো, তারাই সেই বিষবাষ্পের মূল উৎস। ফলে যেখানে ছিন্ন মানবতা ডঁকরে কাঁদছে সেখানে রচিত হচ্ছে ঐক্যের কবর।
তাই প্যানইসলামাবাদ পূনগর্ঠনে কারা সহি-সালামতে কোশেশ করে যাচ্ছেন, সেটাই এখন অনুসন্ধিৎসু বিষয়।
কোন মন্তব্য নেই